ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২০২৪-২৫ প্রিমিয়ার লিগ অভিযান এক হতাশাজনক অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। রুবেন আমোরিম দায়িত্ব নেওয়ার পর, ক্লাবটি ইতিহাসের অন্যতম বাজে ফর্মে পৌঁছেছে।
📉 গোলশূন্য ম্যাচের রেকর্ড: আমোরিমের চ্যালেঞ্জ
আমোরিমের অধীনে ইউনাইটেড ২২ ম্যাচে ৯ বার গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার কোচিংয়ের অধীনে দল মাত্র ২১৮ মিনিট খোলা মাঠে লিডে ছিল।
এই সংখ্যাগুলো শুধু আক্রমণে নয়, পুরো দলীয় পারফরম্যান্সে দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
⚔️ ইউরোপে নাটক, ঘরোয়া ব্যর্থতা
ইউরোপা লিগে লিওঁর বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচ থাকলেও, প্রিমিয়ার লিগে দলটির খেলা ছিল ছন্দহীন। আক্রমণে ধার কম এবং রক্ষণে ভঙ্গুরতা স্পষ্ট।
🎯 হোজলুন্ডের দ্বিধা: একাকী স্ট্রাইকারের লড়াই
২২ বছর বয়সী রাসমুস হোজলুন্ড, জোশুয়া জিরকজির ইনজুরির পর একমাত্র ফিট স্ট্রাইকার। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে আমোরিমের অধীনে মাত্র দুটি গোল করেছেন।
৭২ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তির জন্য এটি যথেষ্ট নয়। আমোরিম যদিও তাকে সমর্থন করে যাচ্ছেন, কিন্তু বিকল্প না থাকায় চাপ বেড়েছে তরুণ স্ট্রাইকারের উপর।
🧩 মিডফিল্ডের সমস্যায় বাড়ছে গোল খরা
ইউনাইটেডের গোলসংকট শুধু হোজলুন্ডের ব্যর্থতা নয়। মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার অভাব, বল ধরে রাখার অক্ষমতা এবং শেষ তৃতীয়াংশে কার্যকর উপস্থিতি নেই।
গার্নাচোর প্রতিভা ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের শ্রম সত্ত্বেও, দলটি ধারাবাহিকভাবে মানসম্পন্ন সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ।
🏟️ ঘরের মাঠে বিপর্যয়: ওল্ড ট্র্যাফোর্ড আর দুর্গ নয়
এই মৌসুমে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আটটি লিগ ম্যাচে পরাজয় ঘটেছে—১৯৬২-৬৩ সালের পর প্রথমবার। দলটির আত্মবিশ্বাস এবং কৌশলগত প্রস্তুতির অভাব এখানেই স্পষ্ট।
ভিলা ও ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যাচ এখনও বাকি। আরও হার হলে, এই রেকর্ড আরও খারাপ হতে পারে।
🏆 ইউরোপা লীগে শেষ আশার খোঁজ
ইউরোপা লিগ এখন ইউনাইটেডের মৌসুম রক্ষার একমাত্র উপায়। সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি অ্যাথলেটিক বিলবাও। ফাইনালে টটেনহ্যাম অথবা বোডো/গ্লিম্ট।
এই প্রতিযোগিতায় সাফল্য আমোরিমের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। ব্যর্থ হলে, বড় রকমের পুনর্গঠন অবধারিত।
🔚 উপসংহার: পুনরুত্থান নাকি পতনের গল্প?
ইউনাইটেডের বর্তমান সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত নয়—পুরো কাঠামোগত পতন। আমোরিমের অধীনে নতুন যুগের স্বপ্ন থাকলেও ফলাফল বিপর্যয়কর।
দলকে আবার গুছিয়ে তুলতে হবে নতুন মৌসুমের আগে: হোজলুন্ডকে সহায়তা, পরিষ্কার কৌশল এবং গভীরতা নিয়ে। ইউরোপা লিগে সাফল্য পেলে গল্প পাল্টে যেতে পারে—না হলে, এটা ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে।
