বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায় যেন রাজনৈতিক থ্রিলারের চেয়েও নাটকীয়। ছাত্র আন্দোলন, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ চাপ ও আচরণবিধি বিতর্ক মিলিয়ে তার ক্যারিয়ার শেষ হয় অপ্রত্যাশিতভাবে। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনা ছিল একটি ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’, যেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
🚨 আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিসিবি অভিযোগ তোলে, কোচ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এ জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং চুক্তিও বাতিল করা হয়।
- হাথুরুসিংহে কখনো অভিযোগ স্বীকার করেননি
- বিসিবির এক কর্মকর্তার ‘গোপন সতর্কবার্তা’ ছিল বিদায়ের সূচনা
- তিনি বলেন, “কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানিই হয়নি আমার”
তার দাবি অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত ছিল একতরফা। তিনি নিজের দিক তুলে ধরার সুযোগ পাননি।
🕛 মধ্যরাতে পালানো: এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হাথুরুসিংহে গোপনে দেশত্যাগ করেন।
- হুডি ও টুপি পরে ব্যাংকে টাকা তোলেন
- মিডিয়ার খবরে আতঙ্কিত হয়ে যান
- সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চড়ে ঢাকা ত্যাগ করেন
এয়ারপোর্টে এক সেনা কর্মকর্তা তাকে বলেন, “আপনি আমাদের দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন”—এই মানবিক মুহূর্তটি তাকে স্পর্শ করে।
👊 শারীরিক হামলার অভিযোগ: চড় না ভুল বোঝাবুঝি?
বিশ্বকাপে নাসুম আহমেদকে আঘাতের অভিযোগ সামনে আসে:
- কোচ দাবি করেন, “শুধু মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পিঠে চাপ দিয়েছিলাম”
- নাসুম কখনো অভিযোগ করেননি
- কোনো ভিডিও ফুটেজও পাওয়া যায়নি
তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি।”
🎙️ প্রাক্তন সহকর্মীদের সাক্ষ্য
নিক পোথাস ও রঙ্গনা হেরাথ হাথুরুসিংহের পক্ষে মুখ খোলেন।
- “তিনি সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার,” বলেন পোথাস
- হেরাথ বলেন, “বিশ্বকাপে অনেক ক্যামেরা থাকে। কিছু হলে ফুটেজে ধরা পড়ত।”
এতসব সাক্ষ্য ও তথ্যের পরেও বিসিবির অবস্থান ছিল কঠোর।
⚖️ উপসংহার: ন্যায়বিচারের অভাব?
বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়, এই ঘটনা কেবল এক কোচের চাকরি হারানো নয়—এটি ক্রিকেট প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সংকট ও স্বচ্ছতার অভাবের প্রতিফলন।
হাথুরুসিংহে আজও বিশ্বাস করেন, তাকে রাজনীতির বলি করা হয়েছে।
একটি আন্তর্জাতিক কোচ যদি ন্যায়বিচার না পান, তবে ভবিষ্যতে আর কে বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হবেন?ছে।
